বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা আসানসোল, ৩ জুন ২০২৫: আসানসোলের উত্তর থানার অন্তর্গত সৃষ্টিনগরে মঙ্গলবার একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে মাদক বিক্রেতা গ্রেফতারে গিয়ে তীব্র বাধার মুখে পড়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ। এই ঘটনায় পুলিশের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনজন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ডিসিপি (সেন্ট্রাল) ধ্রুব দাস। ঘটনাটি এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করে, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উত্তর থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আসানসোলের রেলপার আজাদ বস্তির তিন যুবক—মহম্মদ রাজা ও মহম্মদ মিরাজ সহ আরেকজনকে—মাদক বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার করতে গিয়েছিল গোয়েন্দা বিভাগ। অভিযানের সময় অভিযুক্তদের আত্মীয়রা পুলিশের সঙ্গে টানাটানি শুরু করে। মহম্মদ মিরাজকে তাদের আত্মীয়রা কার্যত টেনে-হিঁচড়ে পুলিশের গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ শুধুমাত্র মহম্মদ রাজাকে গ্রেফতার করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বাকি দুজনকে গ্রেফতার না করেই ফিরতে হয় পুলিশকে।স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ফানসাবি আলিয়ার দাবি, পুলিশ পোশাকে না থাকায় এবং নিজেদের পরিচয় গোপন করে অভিযান চালানোয় এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “হঠাৎ একটি গাড়ি এসে দুই যুবককে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ পরিচয় না দেওয়ায় স্থানীয়রা বাধা দেয়।” স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ যুবকদের মারধর করেছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।এই ঘটনায় প্রথমে বচসা শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতি ও গাড়ি ভাঙচুরে রূপ নেয়। ডিসিপি ধ্রুব দাস জানান, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন, এবং গোয়েন্দা বিভাগের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এই ঘটনার পর সৃষ্টিনগর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুললেও, পুলিশের দাবি, তারা আইনানুগভাবে অভিযান চালাচ্ছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে, এবং পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। Share Post Whatsapp Email Print Messenger Like this:Like Loading... Related Post navigation গরু পাচারের অভিযোগে রানীগঞ্জে বিজেপি যুব মোর্চার বিক্ষোভ, গাড়ি আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হল পশ্চিম বর্ধমানে আদিবাসী উচ্ছেদের বিরুদ্ধে জোরালো বিক্ষোভ, নুনিয়া ব্রিজ ও চরণপুরের সমস্যা নিয়ে সরব ২২টি সামাজিক সংগঠন