বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা পশ্চিম বর্ধমান জেলা ডেকোরেটর সমন্বয় সমিতির ১৩তম জেলা সম্মেলন আসানসোলের রবীন্দ্রভবনে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুদিনব্যাপী এই সম্মেলনে জেলা থেকে প্রায় ৬০০ জন এবং রাজ্য থেকে প্রায় ১০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে সাংগঠনিক আলোচনা ও নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল বাল্যবিবাহ রোধে সমিতির অগ্রণী ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত। সম্মেলনে গৃহীত একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, জেলার কোনো এলাকায় যদি বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হয়, তবে সেখানে সমিতির কোনো সদস্য ডেকোরেটর হিসেবে কাজ করবেন না। শুধু তাই নয়, এই ধরনের ঘটনার খবর পেলে সমিতি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করবে। এই সিদ্ধান্ত সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক নির্মল চক্রবর্তী এবং রাজ্য সভাপতি মলয় ব্যানার্জি। তাঁরা সমিতির এই সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশংসা করে বলেন, এই পদক্ষেপ সমাজের কুসংস্কার দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।সম্মেলনে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন সৌমেন চৌধুরী, কার্যকরী সভাপতি বৈদ্যনাথ গুপ্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উৎপল রায় চৌধুরী ও মৃণাল জাসু, সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শ্যামল সামন্ত ও সঞ্জয় উপাধ্যায়, এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অনিন্দ্য পাজা ও কাঞ্চন লাহা।পশ্চিম বর্ধমান জেলা ডেকোরেটর সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক উৎপল রায় চৌধুরী ক্যামেরার সামনে বলেন, “আমরা বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছি। আমাদের সদস্যরা কেবল কাজ বন্ধই করবে না, প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করে এই কুপ্রথা রোধে কাজ করবে।”এই সম্মেলন পশ্চিম বর্ধমান জেলায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহের মতো কুপ্রথা দূরীকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সমিতির এই উদ্যোগ সমাজের বিভিন্ন স্তরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। Share Post Whatsapp Email Print Messenger Like this:Like Loading... Related Post navigation প্রকাশ্য দিবালোকে ১১ লক্ষ টাকা ছিনতাই, আতঙ্কিত ব্যবসায়ী মহল চিনাকুড়ি কয়লাখনিতে ৫৫ শ্রমিকের পুনর্বহাল ও স্থানীয় নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ