বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা
পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামো উন্নয়নে বড়সড় ঘোষণা করল রেল মন্ত্রক। রাজ্যে মোট ১৭৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি নতুন রেললাইন প্রকল্পের জন্য চূড়ান্ত লোকেশন সার্ভের অনুমোদন মিলেছে। বীরভূম, হুগলি ও পূর্ব বর্ধমান—এই তিন জেলার বিস্তীর্ণ অংশে রেল যোগাযোগ আরও মজবুত হবে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু এই উন্নয়নের ছবির মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে আর এক বাস্তবতা—
মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমা আবারও রেল মানচিত্রের বাইরে।
✅ কোন কোন রুটে মিলল ছাড়পত্র
রেল মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুমোদন পাওয়া তিনটি রুট হল—
সিউড়ি–নালা (ভায়া রাজনগর ও বক্রেশ্বরধাম) – ৭৩ কিমি
আরামবাগ–খানাকুল – ২৭ কিমি
রসুলপুর–জঙ্গলপাড়া – ৭৮ কিমি
এই তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাত্রী পরিষেবা, পর্যটন ও মাল পরিবহণে গতি আসবে বলেই মত রেলের।

🔸 উন্নয়ন পেল বীরভূম–হুগলি–পূর্ব বর্ধমান
বীরভূমের বক্রেশ্বরধাম তীর্থ ও পর্যটন কেন্দ্রকে সামনে রেখে সিউড়ি–নালা রেললাইন, রাজা রামমোহন রায়ের জন্মস্থান খানাকুলকে যুক্ত করতে আরামবাগ–খানাকুল রুট—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় উন্নয়নের ছাপ স্পষ্ট।
রসুলপুর–জঙ্গলপাড়া রুটটি কর্ড ও বাইপাস সংযোগ হিসেবে কাজ করবে, যার ফলে মশাগ্রাম জংশনের উপর চাপ কমবে।
❗ কিন্তু প্রশ্ন উঠছে মুর্শিদাবাদকে ঘিরে
এত কিছুর পরেও মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহকুমার নাম নেই কোনও তালিকায়।
অন্ডাল–সিউড়ি–সাঁইথিয়া– আঁদি- কুলি–খরগ্রাম–কান্দি হয়ে বহরমপুর অথবা কাটোয়া–সালার থেকে কান্দিকে যুক্ত করার প্রস্তাব বহুবার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বারবারই তা আটকে গিয়েছে ফাইলে।
প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে—
👉 মুর্শিদাবাদে বিজেপির সাংসদ না থাকাতেই কি এই জেলাকে বারবার উপেক্ষা করা হচ্ছে?
বর্তমানে মুর্শিদাবাদ জেলার বেশিরভাগ লোকসভা আসন তৃণমূল ও কংগ্রেসের দখলে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্রের রেল প্রকল্প বণ্টনে সেই বাস্তবতার প্রভাব পড়ছে বলেই অভিযোগ উঠছে।
🗣️ অধীর চৌধুরীর উদ্যোগও থেমে গিয়েছিল
প্রসঙ্গত, অধীর রঞ্জন চৌধুরী রেলের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন কান্দিকে রেল মানচিত্রে আনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সরকার বদলের পর সেই উদ্যোগ কার্যত থমকে যায়। তারপর থেকে নতুন করে আর কোনও বড় অগ্রগতি চোখে পড়েনি।
💰 বাজেটে কি মিলবে উত্তর?
এই পরিস্থিতিতে পহেলা ফেব্রুয়ারির কেন্দ্রীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের মানুষ।
কান্দি মহকুমার জন্য নতুন রেললাইন, অন্তত লোকেশন সার্ভে বা বাজেট বরাদ্দ—কোনও ঘোষণায় কি মিলবে আশার আলো? নাকি রাজনৈতিক হিসাবেই আবারও পিছিয়ে পড়বে মুর্শিদাবাদ?
উন্নয়নের দাবিতে এবার প্রশ্ন তুলছে গোটা জেলা—
রেল সংযোগ কি শুধুই সাংসদের রঙ দেখে দেওয়া হচ্ছে?





