বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা আসানসোল, নিজস্ব সংবাদদাতা : ভোটের আগে কুমারপুর রোড ওভারব্রিজ উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হলো আসানসোলে। তৃণমূল কংগ্রেসের মন্ত্রী ও বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয় অভিযোগ তুলেছেন, তাঁর উদ্যোগে নির্মিত ওভারব্রিজের কৃতিত্ব নিতে বিরোধীরা দ্বিতীয়বার উদ্বোধনের আয়োজন করেছে। অন্যদিকে বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল পাল্টা কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন বাবুল সুপ্রিয়কে। রবিবার বিকেলে রেলমন্ত্রী ঐশ্বিনী বৈষ্ণব ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন সিউড়ি রোড ওভারব্রিজ, কুমারপুর রোড ওভারব্রিজ এবং আসানসোল-বোকারো ট্রেন পরিষেবা। কুমারপুর ওভারব্রিজ উদ্বোধন উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল রেল স্টেশনে ট্রেন পরিষেবা উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং সিউড়ি ফ্লাইওভার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।উদ্বোধনের সময় কুমারপুর ওভারব্রিজে যে ফলক উন্মোচন করা হয় তাতে লেখা ছিল ‘জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ’। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।বাবুল সুপ্রিয়র অভিযোগ-তৃণমূল মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বলেন, বহু বছর আগেই তিনি এই ওভারব্রিজ আসানসোলবাসীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক বাধা, হকার আন্দোলন এবং আর্থিক সংকট কাটিয়ে তিনি এই ব্রিজের কাজ শুরু করিয়েছিলেন।তিনি অভিযোগ করেন, “ভোটের আগে জোর করে দ্বিতীয়বার উদ্বোধন করা হচ্ছে। এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দৃষ্টিকটু।”বাবুল আরও দাবি করেন, তৎকালীন সময়ে তিনি বিজেপির সাংসদ থাকাকালীন রেল ও সেলের অর্থ সাহায্যে এই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করান এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। তাঁর মতে, শহরবাসীর সুবিধাই তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।উল্লেখযোগ্যভাবে, বাবুল সুপ্রিয় একসময় বিজেপির সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি বিজেপি ছাড়েন এবং বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই অনুষ্ঠানেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।অগ্নিমিত্রা পালের পাল্টা আক্রমণবিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন,বাবুল সুপ্রিয় কেন্দ্র সরকারের মন্ত্রী ছিলেন বলেই তিনি এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু পরে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, “তিনি ‘টিম ইলেভেন’-এ খেলবেন বলে বিজেপিকে ধোঁকা দিয়ে তৃণমূলে গেছেন। এখন তিনি সেখানে কতটা সফল তা মানুষ দেখছে।”দশ বছরের অপেক্ষার পর বাস্তবায়নজানা গেছে, কুমারপুর ওভারব্রিজ নির্মাণে প্রায় দশ বছর সময় লেগেছে। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প অবশেষে ২০২৬ সালে উদ্বোধন হলো। দীর্ঘ বিলম্ব নিয়ে আগে থেকেই রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছিল।রাজনৈতিক মহলের মতপর্যবেক্ষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের আগে উন্নয়ন প্রকল্পের কৃতিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হতে পারে। কুমারপুর ওভারব্রিজ উদ্বোধন সেই রাজনৈতিক সংঘাতেরই নতুন উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে। Share Post Whatsapp Email Print Messenger Like this:Like Loading... Related Post navigation পশ্চিম বর্ধমান জেলা দিয়ে বাংলা সফর শুরু বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির যানজট ঘিরে উত্তেজনা, ডেলিভারি কর্মী ও গ্রামবাসীদের সংঘর্ষে চাঞ্চল্য — সাময়িকভাবে বন্ধ বেসরকারি সংস্থার কাজ