বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতাকলকাতা : ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে আর্থিক সাফল্যের অনন্য নজির গড়েছে পূর্ব রেলওয়ে। যাত্রী পরিবহণে আয় বৃদ্ধি, ভাড়া-বহির্ভূত রাজস্ব সংগ্রহ এবং কঠোর ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—এই তিনের সমন্বয়ে পূর্ব রেল দেশের পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যাত্রী পরিবহণ থেকে পূর্ব রেলের আয় গত বছরের একই সময়ের ৯৮৪.৮১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,০৬১.৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই খাতে প্রায় ১৮.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রী সংখ্যাও ২.৫৬ শতাংশ বেড়ে ৩৪২.০৭ মিলিয়নে পৌঁছেছে।ভাড়া-বহির্ভূত আয়ে অভাবনীয় উত্থানরেলের আয়ের অন্যতম বড় সাফল্য এসেছে ভাড়া-বহির্ভূত উৎস থেকে। স্টেশন বিজ্ঞাপন, জমি লিজ ও অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘সান্ড্রি রেভিনিউ’ ৬৬.১৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩৯.৩৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ এই খাতে আয় কার্যত দ্বিগুণ হয়েছে।এছাড়া কঠোর টিকিট চেকিং অভিযানের ফলে অতিরিক্ত ২৪.৯৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৫.৬৯ শতাংশ বেশি।পণ্য পরিবহণেও স্থিতিশীলতাপণ্য পরিবহণে পূর্ব রেল ২৩.১৪ মিলিয়ন টন লোডিং রেকর্ড করেছে। যদিও এই ত্রৈমাসিকের মূল আকর্ষণ ছিল কম ব্যয়ে বেশি সাফল্য অর্জনের কৌশল। কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সাধারণ কর্মক্ষম ব্যয় গত বছরের তুলনায় ১১.৪৪ শতাংশ কমানো সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে অপারেটিং রেশিও উন্নত হয়েছে এবং রেলের সামগ্রিক আর্থিক স্বাস্থ্য আরও শক্তিশালী হয়েছে।বাণিজ্যিক নিলামে বাড়ছে রাজস্বরাজস্ব বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা নিয়েছে বাণিজ্যিক সম্পদের সফল নিলাম।শিয়ালদহ স্টেশন বিভাগ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিয়ালদহ বিভাগ ১২টি বাণিজ্যিক সম্পদের নিলাম করে মোট ২,৩৯,৬৫,৯৯৫ টাকার চুক্তি সম্পন্ন করেছে।এর মধ্যে—৮টি পার্কিং সম্পদ থেকে ৪৮,৮৫,৯৮৬ টাকাএকটি মেডিকেল স্টোর থেকে ১,৪১,৬০০ টাকাতিনটি বিজ্ঞাপন সম্পদ থেকে ১,৮৯,৩৮,৪০৯ টাকা আয় হয়েছেমালদা রেল বিভাগ১ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৪টি বাণিজ্যিক সম্পদ নিলাম করে ২,৫০,৮৬,০১৫ টাকা সংগ্রহ করেছে মালদা বিভাগ।এর মধ্যে রয়েছে—এমএফভি নিলাম থেকে ১,১৫,৫৭,৯৭৮ টাকাএসি ওয়েটিং লাউঞ্জ থেকে ৬৭,৭৯,১০০ টাকাবিজ্ঞাপন সম্পদ থেকে ৩৭,৬৭,৮১৪ টাকামেডিকেল স্টোর, সেলুন কিয়স্ক ও পে-অ্যান্ড-ইউজ টয়লেট থেকেও উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে।প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনায় সাফল্যরেলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, আগ্রাসী রাজস্ব সংগ্রহ এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত কৌশল ভবিষ্যতের জন্য টেকসই আর্থিক কাঠামো তৈরি করছে। প্রযুক্তি নির্ভর সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অপচয় রোধের উদ্যোগ এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।।ভবিষ্যতের দিকে আরও শক্ত অবস্থানট্রাফিক ও পরিষেবা বৃদ্ধির মাঝেও ব্যয় কমিয়ে পূর্ব রেল চলতি অর্থবর্ষের শেষ পর্বে আর্থিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশের পরিবহণ পরিকাঠামোয় পূর্ব রেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এই সাফল্যের মাধ্যমে আরও দৃঢ় হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। Post navigationजल्द शुरू होगी आसनसोल–बोकारो स्टील सिटी पैसेंजर ट्रेन आठ फरवरी को वर्चुअल उद्घाटन