বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতাবৃহস্পতিবার ১৯১তম জন্মতিথিতে ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই ভক্তিসাগরে ভেসে উঠল পূণ্যভূমি কামারপুকুর। ঠিক ভোর ৪টে ৩০ মিনিটে মঙ্গলআরতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় পরমহংসদেবের জন্মোৎসব। শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ভক্তিগীতির সুরে মুখর হয়ে ওঠে সমগ্র এলাকা। মনে হচ্ছিল, আজও যেন এই পবিত্র মাটিতে বিরাজ করছেন যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ।শ্রীরামকৃষ্ণের মাটির বসতবাটিতে সকাল থেকেই চলেছে বিশেষ পূজার্চনা। ভক্তদের দীর্ঘ লাইন, কারও হাতে প্রসাদ, কারও হাতে ফুল—সবার চোখেমুখে এক গভীর শান্তি ও ভক্তিভাব। দেশ-বিদেশ থেকে আগত অগণিত ভক্তরা এই পুণ্যতিথিতে সামিল হয়ে আত্মিক প্রশান্তির সন্ধান পেয়েছেন।কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন থেকে বের হয় সুসজ্জিত শোভাযাত্রা। শঙ্খ, কীর্তন, ধর্মীয় ব্যানার ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই শোভাযাত্রা গোটা কামারপুকুর প্রদক্ষিণ করে। মঠের সন্ন্যাসীরা ভক্তদের সঙ্গে পা মিলিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। তাঁদের শান্ত, স্থির উপস্থিতি যেন ভক্তদের হৃদয়ে ছড়িয়ে দেয় এক অপার্থিব প্রশান্তি।এলাকার বিভিন্ন স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরাও এই শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন। ছোট ছোট কণ্ঠে ভক্তিগীতি, হাতে পতাকা ও ফুল—সব মিলিয়ে এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।আজকের এই পবিত্র দিনে কামারপুকুর যেন হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত তীর্থক্ষেত্র—যেখানে ধর্ম, ভক্তি ও মানবতার বার্তা একসূত্রে গাঁথা। শ্রীরামকৃষ্ণের বাণী—“যত মত তত পথ”—আজও সমান প্রাসঙ্গিক, সমান আলোকবর্তিকা।১৯১ বছর পরেও তাঁর জন্মতিথি কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি এক আত্মজাগরণের আহ্বান। কামারপুকুরের আকাশ-বাতাস আজ সেই চিরন্তন বাণীকেই যেন আবার স্মরণ করিয়ে দিল—ভক্তি, প্রেম ও মানবতাই হল সত্য ধর্মের মর্মকথা।Share this: Share on Facebook (Opens in new window) Facebook Share on Threads (Opens in new window) Threads Share on X (Opens in new window) X Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp Share on Telegram (Opens in new window) Telegram Print (Opens in new window) Print Like this:Like Loading...Related Post navigationকয়লাকাণ্ডে ইডির জাল আরও বিস্তৃত, ‘বাদশা’ সিন্ডিকেট ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়