বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

স্বল্প পরিকাঠামো, সীমিত সুযোগ-সুবিধা—তবুও অদম্য ইচ্ছাশক্তি, চিকিৎসকদের দক্ষতা এবং টিমওয়ার্কের জোরে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে আসানসোল জেলা হাসপাতাল। গত কয়েক বছর ধরে এখানে এমন একাধিক জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা হয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও করার আগে বহুবার ভাবতে হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের সুপার নিখিল চন্দ্র দাস-এর অনুমোদন, রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান মন্ত্রী মলয় ঘটকের সহায়তা এবং চিকিৎসকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই কঠিন চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে এমন রোগীদের চিকিৎসাও এখানে করা হয়েছে, যাদের বড় মেডিকেল কলেজ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।


শুধু চিকিৎসাই নয়, হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকেও এমন কিছু রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী অনেক জেলা হাসপাতালেও সম্ভব হয় না। ফলে পশ্চিম বর্ধমান ছাড়াও ঝাড়খণ্ডের দেওঘর, বীরভূমের নলহাটি-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু আর্থিকভাবে দুর্বল রোগী এখানে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হয়েছেন।


রোগী কল্যাণ সমিতির তহবিল থেকে বহু দামী ওষুধও রোগীদের দেওয়া হয়েছে, যার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত। চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী কোন জেলার বা কোন রাজ্যের—তা কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকদের দাবি, রোগী ও তাঁদের পরিবারের সাহস এবং আস্থাই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তাঁদের সহযোগিতা না পেলে এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হত না।


এই চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অনকোলজিস্ট ডা. অমিত মুখোপাধ্যায়, সার্জেন ডা. অমিত কুমার গুপ্ত, অর্থোপেডিক সার্জেন ডা. নিরঝর মাঝি, সার্জেন ডা. রাহুল আমিন, ডা. সঞ্জিত চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক চিকিৎসক। পাশাপাশি নন-মেডিকেল আধিকারিক কনকন রায়, ভাস্কর হাজরা এবং রোগী কল্যাণ সমিতির সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক-এর সহযোগিতাও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রেডিয়েশন পরিষেবা চালু না থাকায় চিকিৎসার কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে রেডিয়েশন ব্যবস্থার অনুমতি মিললে ক্যান্সার চিকিৎসা আরও পূর্ণতা পাবে বলে আশাবাদী তাঁরা।
গত কয়েক বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ক্যান্সার রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলার সাফল্যে উৎসাহিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানিয়েছেন বহু রোগী ও তাঁদের পরিবার।
এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করে দিল—ইচ্ছাশক্তি আর দলগত প্রচেষ্টা থাকলে সীমিত পরিকাঠামোও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *