বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা গলসি বিধানসভার বিধায়ক নেপাল ঘরুইকে ঘিরে পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব বর্ধমানের বুদবুদের চাকতেঁতুল এলাকায়। শুক্রবার সকালে ঘুম ভাঙতেই এলাকার বাসিন্দারা দেখতে পান, রাতের অন্ধকারে কে বা কারা বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার ও পোস্টার টাঙিয়ে দিয়ে গিয়েছে। ওই পোস্টারগুলিতে লেখা ছিল— “দুর্নীতিগ্রস্ত, তোলাবাজ বিধায়ক নেপাল ঘরুই হাটাও, গলসি বিধানসভা বাঁচাও।” এই পোস্টারকে কেন্দ্র করে এলাকায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। পোস্টারে দাবি করা হয়েছে যে এটি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেই লাগানো হয়েছে, যদিও সেই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।এলাকার বাসিন্দা নটন ঘোষ জানিয়েছেন, একসময় তিনিও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের সময় নেপাল ঘরুই এলাকায় প্রচারে এসেছিলেন, কিন্তু তারপর আর তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি। তাঁর দাবি, এলাকার মানুষ এখন আর নেপাল ঘরুইকে বিধায়ক হিসেবে দেখতে চান না। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে তা তিনি জানেন না, তবে যারা লাগিয়েছে তারা সঠিক কাজই করেছে বলে মত তাঁর।অন্যদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূল নেতা তথা চাকতেঁতুল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান অশোক ভট্টাচার্য দাবি করেছেন, বিজেপি চক্রান্ত করেই এই পোস্টার লাগিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। তাঁর কথায়, “গত বিধানসভা নির্বাচনের সময়ও বিজেপি নানা কৌশল করেছিল, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। এবারও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। তবে শেষ কথা বলবে এলাকার মানুষই।”যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বর্ধমান সদরের বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, “যারা এতদিন বিজেপিকে খুঁজে পেত না, তারা এখন সর্বত্র বিজেপির ভূত দেখছে। আসল বিষয় হল সাধারণ মানুষ তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রত্যাখ্যান করছে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তৃণমূলের বিসর্জন হবে—এটাই এখন মানুষের স্লোগান।”এই পোস্টার-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই গলসি বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। Share Post Whatsapp Email Print Messenger Like this:Like Loading... Related Post navigation এক বছরও হয়নি রাস্তা তৈরি, তার আগেই ধস NH-19-এ! মেমারিতে সাইড ওয়াল ভেঙে বন্ধ বর্ধমানমুখী লেন