বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করল Election Commission of India। কমিশন জানিয়েছে, এবারও নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের অনুমোদিত প্রতিনিধিরাও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ভোটের দিনে দায়িত্ব পালনের কারণে যাঁদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া সম্ভব হয় না, তাঁদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও পোস্টাল ব্যালটে ভোটের সুযোগ পাচ্ছেন, জানাল নির্বাচন কমিশন


রবিবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করে Election Commission of India। একই সঙ্গে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, কোন কোন শ্রেণির ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্বাচনের সময় বিভিন্ন জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভোটের দিনে দায়িত্বে থাকতে হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের পক্ষে নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব হয় না। সেই কারণে কমিশনের পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালটের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।
কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেল ও মেট্রো রেল পরিষেবা, রাজ্য দুগ্ধ ইউনিয়ন ও সমবায় ক্ষেত্র, স্বাস্থ্য দফতর, সড়ক পরিবহণ নিগম, দমকল, পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স ও হোমগার্ড, কারা দফতর, আবগারি বিভাগ, ট্রেজারি পরিষেবা, তথ্য ও জনসংযোগ দফতর, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, খাদ্য ও গণবণ্টন বিভাগ এবং বিদ্যুৎ দফতরের কর্মীরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত সংবাদকর্মীরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।
কমিশন আরও জানিয়েছে, কোনও ভোটারের কাছে যদি ভোটার পরিচয়পত্র না থাকে, তবুও বিকল্প নথি দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে। এই বিকল্প নথিগুলির মধ্যে রয়েছে আধার কার্ড, জব কার্ড, ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের ছবি-সহ পাসবই, শ্রম মন্ত্রকের স্বাস্থ্য বিমা স্মার্ট কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড, এনপিআর-এর অধীনে নিবন্ধকের জারি করা স্মার্ট কার্ড, ভারতীয় পাসপোর্ট এবং ছবি-সহ পেনশন সংক্রান্ত নথি।
এছাড়াও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কর্মচারী, পাবলিক সেক্টর সংস্থা বা পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির কর্মীদের ছবি-সহ পরিচয়পত্র এবং সাংসদ বা বিধায়কদের দেওয়া সরকারি পরিচয়পত্রও বিকল্প নথি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের ‘ইউনিক ডিসঅ্যাবিলিটি আইডি কার্ড’-ও ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে বৈধ নথি হিসেবে মান্যতা পাবে।
প্রবাসী ভারতীয় ভোটারদের ক্ষেত্রেও আলাদা নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। যাঁরা পাসপোর্ট দেখিয়ে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের ভোটকেন্দ্রে শুধুমাত্র আসল পাসপোর্ট দেখাতে হবে।
উল্লেখ্য, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে West Bengal-এ ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়—২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে এবং দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। অন্যদিকে Assam, Kerala এবং Puducherry-তে ৯ এপ্রিল এক দফায় ভোট হবে। Tamil Nadu-তে ভোটগ্রহণ হবে ২৩ এপ্রিল। সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোট গণনা হবে ৪ মে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *