বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরদার করা হয়েছে নাকা চেকিং। আর সেই কড়া নজরদারিতেই বড় সাফল্য পেল আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ মাদক ও মোবাইল ফোন, যা নির্বাচনী পরিবেশে অবৈধ কার্যকলাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাকা চেকিং চলাকালীন রাঁচি-আসানসোল রুটের একটি বাসে জুবলি মোড় এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ৬৬টি মোবাইল ফোন এবং প্রায় ১ কেজি গাঁজা। এর পাশাপাশি, আগের রাতে ঝাড়খণ্ড থেকে আসা আরও একটি বাসে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয় প্রায় ১০ কেজি গাঁজা। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১১ কেজি গাঁজা উদ্ধার হয়েছে।


নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই নাকা চেকিং আরও কড়া করা হয়েছে। বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা বাসগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই নগদ টাকা, মাদকদ্রব্য এবং একাধিক মোবাইল উদ্ধার করেছে, যা নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে।


তবে এই সাফল্যের মাঝেই উঠছে বড় প্রশ্ন। জানা যাচ্ছে, ঝাড়খণ্ড থেকে আসা কিছু বাস ডুবুরডিহি চেকপোস্ট দিয়ে ঢুকলেও সেগুলিতে ঠিকমতো তল্লাশি হচ্ছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আবার এমন অনেক বাস রয়েছে, যেগুলি আসানসোল শহরে না ঢুকে জুবলি ব্রিজ পেরিয়ে সরাসরি দুর্গাপুরের দিকে চলে যাচ্ছে—সেই গাড়িগুলির তল্লাশি কোথায় এবং কীভাবে হচ্ছে, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের নজরে এসেছে এবং অভ্যন্তরীণ স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন আধিকারিকদের মতে, নাকা চেকিং আরও জোরদার করা এবং চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
নির্বাচন যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রশাসনের এই কড়া নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে চেকিং ব্যবস্থার ফাঁকফোকর বন্ধ করাও জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *