বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা এক লক্ষ টাকা দিয়ে দুই মাসের শিশুপুত্রকে কেনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল আসানসোলে। ই-মেল মারফত পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ। তদন্তে উত্তর ধাদকার একটি দম্পতির হেফাজত থেকে উদ্ধার হয় মাত্র ২ মাস ১৩ দিনের এক শিশুপুত্র। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ওই দম্পতি-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া দম্পতি হলেন বিনোদ কুমার গুপ্তা (৪৭) এবং বাবিতা গুপ্তা (৩৭)। তাঁরা আসানসোলের উত্তর ধাদকা লাল বাঙ্গলা এলাকার বাসিন্দা। বিনোদের রাজ্য সরকারের রেশন ডিলার। এদের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে ধাদকা রোডের বাসিন্দা অশোক ভওয়ালকা নামে এক মধ্যস্থতাকেও।তদন্তের শুরুতে দম্পতি শিশুটিকে তাঁদের নিজেদের জৈবিক সন্তান বলে দাবি করেছিলেন। তবে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানের পর পুলিশের হাতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, বীরভূমের সিউড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে এক লক্ষ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এই পুরো ব্যবস্থাপনায় কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা ছিল বলেও তদন্তে অভিযোগ উঠে এসেছে।শিশুটিকে দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ। এমনকী, দম্পতিকে শিশুটির জৈবিক বাবা-মা হিসেবে দেখিয়ে নথিপত্র তৈরি ও ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এবং জুভেনাইল জাস্টিস (কেয়ার অ্যান্ড প্রোটেকশন অব চিলড্রেন) অ্যাক্ট, ২০১৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ওই দম্পতি, এক মধ্যস্থতাকারী, সিউড়িতে কথিত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি-সহ আরও কয়েকজনের ভূমিকা তদন্তের আওতায় রয়েছে।উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে নির্ধারিত আইনানুগ প্রক্রিয়া মেনে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির নিরাপত্তা, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পুলিশ এখন তদন্ত করে জানার চেষ্টা করছে—শিশুটির প্রকৃত পরিচয় কী, তার জৈবিক বাবা-মা কারা, জন্ম শংসাপত্রটি আসল কি না, সিউড়ির নার্সিংহোমের ভূমিকা কী এবং এই ঘটনায় আরও কোনও ব্যক্তি বা মধ্যস্থতাকারী জড়িত রয়েছে কি না। পাশাপাশি এক লক্ষ টাকার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে শিশুটিকে কীভাবে, কার কাছ থেকে এবং কোন পরিস্থিতিতে ওই দম্পতির কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না। ডিসিপি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস জানান ,অভিযুক্ত তিনজনকেই আসানসোল উত্তর থানার পুলিশ বৃহস্পতিবার আসানসোল আদালতে পাঠিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেবে এবং তদন্ত করে দেখবে এইরকম শিশু তথা মানব পাচারের সঙ্গে আর কে কে জড়িত রয়েছে। Share Post WhatsApp Email Print Messenger Like this:Like Loading… Related Post navigation থানায় পুলিশের সঙ্গে বচসার পর বিজেপিতে বড় সাংগঠনিক পদক্ষেপ, ভেঙে দেওয়া হল রানীগঞ্জের মণ্ডল-১ কমিটি