বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

বাংলা নববর্ষের মতোই ইংরেজি নববর্ষেও ভক্তির আবহে মুখর হয়ে উঠল পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চল। ইংরেজি বছরের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায় আসানসোল শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন প্রাচীন ও জনপ্রিয় মন্দিরে। মা কল্যাণেশ্বরী মন্দির, মা ঘাঘর বুড়ী মন্দির, বার্ণপুরের বারি মন্দির-সহ একাধিক মন্দিরে সকাল থেকেই ভক্তদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন পিকনিক স্পটেও ছিল মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি।


বছরের প্রথম প্রভাতেই দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে নতুন বছরের শুভ সূচনা করতে মন্দির চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন ভক্তরা। সময় যত গড়িয়েছে, ভিড় ততই বেড়েছে। সুখ, শান্তি, সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির কামনায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বহু মানুষ পুজো দেন। আবার অনেকেই পুরনো মানত পূরণ করতে হাজির হন মায়ের দরবারে। শিল্পাঞ্চলের মানুষের কাছে ইংরেজি নববর্ষে মন্দিরে পুজো দেওয়ার এই রীতি বহুদিনের এবং তা আবেগ ও বিশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।


ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে মন্দির কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয় বিশেষ ব্যবস্থা। মন্দির চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় ভূমিকা চোখে পড়ে। জাতীয় সড়ক ও সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যানজট এড়াতে মোতায়েন করা হয় ট্রাফিক পুলিশ।
শুধু শিল্পাঞ্চল নয়, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে রাজ্য ও দেশজুড়েও বিভিন্ন ধর্মীয় কেন্দ্রে ছিল ভক্তদের ঢল। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারাপীঠ, তারকেশ্বর-সহ একাধিক মন্দিরে সকাল থেকেই ভক্তদের ভিড় দেখা যায়। বিশেষ করে কল্পতরু উৎসব উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে।


অন্যদিকে, রাজস্থানে খাটু শ্যাম মন্দিরে, মথুরা ও বৃন্দাবনে কৃষ্ণ জন্মভূমি, শ্রী রামচন্দ্র অযোধ্যায়, বাঁকে বিহারী মন্দিরে, ওড়িশার পুরীর শ্রীক্ষেত্র জগন্নাথ মন্দিরেও ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে বিপুল সংখ্যক ভক্ত দেবদর্শনে উপস্থিত হন। ভোররাত থেকেই মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দর্শন চলে। নতুন বছরের শুরুতে মহাপ্রভুর আশীর্বাদে জীবন সুখময় হোক—এই প্রার্থনাই ছিল ভক্তদের মুখে মুখে।


সার্বিকভাবে ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনটি শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে রাজ্য ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাটল ভক্তি, শৃঙ্খলা ও উৎসবের আবহে। দেবীর আশীর্বাদে নতুন বছরের শুভ সূচনার প্রত্যাশায় মানুষের এই সমাগম যেন নতুন বছরের ইতিবাচক বার্তাই তুলে ধরল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *