বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

আসানসোল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ ট্রাফিক রেলওয়ে জিমনেসিয়াম সংলগ্ন জি টি রোড সংযোগকারী রাস্তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা ব্যবহার করে শহরের বহু মানুষ যানজট এড়িয়ে দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার স্বার্থে রাস্তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেলেও, সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও একাধিক প্রশ্ন।

রেলওয়ের সিদ্ধান্তে বন্ধ গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ রাস্তা, তীব্র ভোগান্তিতে আসানসোলবাসী; স্কুলপড়ুয়া থেকে নিত্যযাত্রীদের ক্ষোভ বাড়ছে


স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তার খুব কাছেই রয়েছে একাধিক প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল। প্রতিদিন বহু ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ এই পথ ব্যবহার করতেন। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে এখন বাধ্য হয়ে অধিকাংশ মানুষকে আসানসোল পৌরনিগম মোড় হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা দিনের বেশিরভাগ সময়ই তীব্র যানজটে জর্জরিত থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, পৌরনিগম মোড় এলাকায় প্রায়শই রাস্তার দুই পাশে অটো, টোটো ও বাস দাঁড়িয়ে থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি গাড়ি, আসানসোল পুরনিগমের চারচাকা যানবাহন এবং আসানসোল দক্ষিণ থানার গাড়ির উপস্থিতির কারণে এলাকাটি অনেক সময় কার্যত যানজটের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। সেই কারণেই শহরের বহু মানুষ বিকল্প হিসেবে ট্রাফিক রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন এই রাস্তা ব্যবহার করতেন।
রাস্তা বন্ধ হওয়ার পর এখন প্রশ্ন উঠছে, সাধারণ মানুষ এই অতিরিক্ত যানজট ও ভোগান্তি থেকে কীভাবে মুক্তি পাবেন? বিশেষ করে স্কুলের সময় ও অফিস টাইমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
এদিকে সাধারণ মানুষের একাংশের প্রশ্ন, স্থানীয় বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কিনা এবং সমস্যার সমাধানে তিনি কোনও উদ্যোগ নেবেন কিনা। একই সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তার যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। স্থানীয়দের বক্তব্য, যখন ওই এলাকার একেবারে কাছেই আসানসোল দক্ষিণ থানা রয়েছে, তখন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে শহরের অন্যান্য এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠতেই পারে।
তবে নিরাপত্তা ও জনস্বার্থ— দুইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য তৈরি করা হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আসানসোলবাসী। শহরের মানুষের দাবি, দ্রুত প্রশাসন, রেল কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করে বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজে বের করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *