বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা স্বামীর মোবাইলে অন্য এক তরুণীর সঙ্গে ভিডিও কল দেখে ফেলেছিলেন স্ত্রী। প্রতিবাদে স্বামীর মোবাইল ফোন ভেঙে দেন তিনি। আর সেই ঘটনাকেই কেন্দ্র করে চরম পরিণতি—বাড়ির বাঁশের খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে ওই গৃহবধূকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হল ওই তরুণীর। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদার মানিকচক থানার নুরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নাদারটোলা এলাকায়। মৃত গৃহবধূর নাম চুন্নি খাতুন (২০)। তাঁর বাপের বাড়ি বিহারের কাটিহার জেলার বাইরিয়া এলাকায়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে সম্বন্ধ করে নুরপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামিউল শেখের সঙ্গে চুন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথমদিকে সংসারে কোনও বড় সমস্যা ছিল না বলেই দাবি পরিবারের। তবে অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে সামিউলের সঙ্গে এলাকারই এক তরুণীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক তৈরি হয়। মাঝেমধ্যেই ওই তরুণীর সঙ্গে সামিউলকে মোবাইলে ভিডিও কলে কথা বলতে দেখে সন্দেহ হয় চুন্নির।এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি শুরু হয় বলে অভিযোগ। সম্প্রতি ভিডিও কলে স্বামীকে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলতে দেখে প্রতিবাদ করেন চুন্নি। অভিযোগ, রাগের বশে তিনি স্বামীর মোবাইল ফোনটি ভেঙে দেন। এরপরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।মৃতার পরিবারের অভিযোগ, মোবাইল ফোন ভেঙে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুন্নির উপর অত্যাচার চালানো হয়। এমনকি বাড়ির বাঁশের খুঁটির সঙ্গে তাঁর হাত-পা বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।কিন্তু শেষরক্ষা হল না। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ হাসপাতালেই মৃত্যু হয় চুন্নি খাতুনের।ঘটনার পর মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে স্বামী সামিউল শেখ, দেওর আনেস শেখ, ননদ চামেলী বিবি এবং শাশুড়ি দিলনুর বিবির নাম রয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।তবে গৃহবধূকে কীভাবে আগুনে পোড়ানো হয়েছিল, ঘটনার পিছনে ঠিক কী ঘটেছিল এবং অভিযোগের সমস্ত বিষয় কতটা সত্য—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।ঘটনায় ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাত্র এক বছরের দাম্পত্য জীবনের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতার বাপের বাড়িতেও। Share Post WhatsApp Email Print Messenger Like this:Like Loading… Related Post navigation বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল কালিয়াচক! চার নাবালক-সহ একই পরিবারের ৭ জন আহত, গ্যাস সিলিন্ডার নাকি বোমা—তদন্তে পুলিশ पति का अफेयर देखना पड़ा भारी! मोबाइल तोड़ने पर महिला को बांधकर जिंदा जलाने का आरोप, इलाज के दौरान मौत