বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

নাবালিকাকে বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া, মাদক মিশ্রিত পানীয় খাইয়ে অচৈতন্য করার অভিযোগ এবং এরপর একটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চলে। ঘটনায় এক মহিলা-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে নেমেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বুদবুদ থানা এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে তার পরিচিত এক বিবাহবিচ্ছিন্না মহিলা ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। অভিযোগ, এরপর তাকে মাদক মিশ্রিত পানীয় খাওয়ানো হয়। পরবর্তীতে একটি গাড়িতে করে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে হোটেলে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, মহিলা-সহ তিনজন গ্রেফতার


নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, সেখানে রাজ মল্লিক, শেখ আজারুদ্দিন-সহ তিন যুবক নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতন চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিমরন তামাং নামে ওই মহিলা ঘটনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত।
অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা নাবালিকাকে বুদবুদ বাইপাসের আর্মি ১ নম্বর গেটের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সিমরন তামাং-সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেন্সিক দল।
বর্তমানে নির্যাতিতা দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
নির্যাতিতার বাবা বলেন, “আমার মেয়েকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে মাদক মিশ্রিত পানীয় খাওয়ানো হয়। এরপর তাকে হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার উপর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আমরা দোষীদের কঠোর শাস্তি চাই।”
ঘটনার নিন্দা করে বিজেপি যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এই ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আমরা পরিবারের পাশে রয়েছি।”
বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী শুভ্রা রজকও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ড. প্রণব কুমার জানান, “ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত মহিলাকে আটক করা হয়েছে। হোটেলের ম্যানেজারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলছে। ধৃতদের সোমবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।”
পুলিশ সূত্রে খবর, পকসো-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *