বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা আট ঘণ্টার কর্মদিবস চালু করা এবং দৈনিক হাজিরা বৃদ্ধি করার দাবিতে ফের উত্তাল হয়ে উঠল আসানসোল শিল্পাঞ্চলের জামুড়িয়া এলাকা। সোমবার এক কারখানার গেট বন্ধ করে বিক্ষোভে সামিল হন শ্রমিকরা। আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমান বাজারদরে মাত্র ১৭০ টাকা হাজিরায় কাজ করে পরিবার চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে, অথচ সেই অনুপাতে পারিশ্রমিক মিলছে না। তাই অবিলম্বে দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি এবং ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করানোর দাবি তুলেছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে বর্তমান মজুরি শ্রমিকদের ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করতে পারছে না।এদিকে কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসন ও বিধায়কের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। রাজ্য সরকার যে নির্দেশিকা জারি করবে, তা মেনে চলার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বারবার কারখানার গেট বন্ধ করে আন্দোলনের ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্পের ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।কারখানা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে যদি এইভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকে, তাহলে শিল্পের ভবিষ্যৎ সংকটের মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে কারখানা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠবে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। বিজেপি বিধায়ক বিজন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধ করে আন্দোলনের পথকে তাঁর দল সমর্থন করে না। একইসঙ্গে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, কারখানা চালু রেখেই মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।উল্লেখ্য, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকে আসানসোল শিল্পাঞ্চলের একাধিক কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। শামসেল, সুপার, গগন, গিরিধন, হরি ওম-সহ বিভিন্ন কারখানায় মাঝেমধ্যেই বিক্ষোভের ঘটনা সামনে আসছে। ফলে প্রশাসনের উপরও বাড়ছে চাপ।শ্রমিকদের বক্তব্য স্পষ্ট—“১৭০ টাকা হাজিরায় বর্তমান সময়ে জীবনধারণ করা সম্ভব নয়। ন্যায্য মজুরি এবং মানবিক কর্মপরিবেশ আমাদের অধিকার।” এখন নজর মালিকপক্ষ, প্রশাসন এবং শ্রমিক সংগঠনগুলির আলোচনার দিকে। সেই আলোচনার মাধ্যমেই শিল্পাঞ্চলের এই অচলাবস্থার সমাধান বেরিয়ে আসে কিনা, সেটাই দেখার। Share Post Whatsapp Email Print Messenger Like this:Like Loading… Related Post navigation রানীগঞ্জের অঞ্জনা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, জনবহুল এলাকায় ফার্নিচার দোকানে আগুনে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির আশঙ্কা