বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী। অহিংসার বার্তা স্মরণ করে এই দিনটিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। তারই মধ্যে এ বার একাধিক শহরে মাংস বিক্রি বন্ধ রাখার প্রশাসনিক নির্দেশ সামনে এসেছে। ফলে গান্ধী জয়ন্তীর দিনে মাংসের দোকান থেকে হোটেল—আমিষ খাবারের ব্যবসার উপর পড়েছে নিষেধাজ্ঞা।

গান্ধী জয়ন্তীতে মাংস-মাটন বন্ধ! দোকান থেকে হোটেল—কোথায় কী নির্দেশ, জানুন বিস্তারিত
মাংস সহ বিরিয়ানির প্রতীকি ছবি

তবে এই নির্দেশ সারা দেশের জন্য এক নয়। বিভিন্ন শহর ও পুরসভা নিজেদের প্রশাসনিক নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে।

হায়দরাবাদে বন্ধ কসাইখানা, মাংসের দোকান

তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে ২ অক্টোবর সমস্ত গবাদি পশু, ভেড়া ও ছাগল জবাইখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৃহত্তর হায়দরাবাদ পুরনিগম (GHMC)-এর আওতাধীন খুচরো মাংস ও বিফের দোকানও ওই দিন বন্ধ থাকবে। GHMC কমিশনার আর ভি কর্ণন পুরনিগম আইনের ৫৩৩(বি) ধারার অধীনে এই নির্দেশ জারি করেছেন।

পুরনিগমের স্ট্যান্ডিং কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ ২ অক্টোবর হায়দরাবাদের বহু বাসিন্দাকে এক দিন আমিষ কেনাকাটা ছাড়াই কাটাতে হবে।

রায়পুরে শুধু দোকান নয়, নজরে হোটেলও

ছত্তীসগঢ়ের রাজধানী রায়পুরেও ২ অক্টোবর মাংস-মাটন বিক্রির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রায়পুর পুরনিগমের আওতায় থাকা পশুবধ গৃহ এবং ছোট-বড় সমস্ত মাংস-মাটনের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নিষেধাজ্ঞা শুধু দোকানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। হোটেলেও মাংস-মাটন বিক্রির উপর নজরদারি থাকবে। কোনও হোটেল বা অন্য প্রতিষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাংস-মাটন বিক্রি হতে দেখা গেলে তা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুরনিগম।

নজরদারিতে পুরনিগমের আধিকারিকরা

রায়পুরে নির্দেশ কার্যকর করতে জোন স্তরের স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য-পরিদর্শকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাংসের দোকান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপর নজর রাখবেন তাঁরা।

কেন ২ অক্টোবর?

২ অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন। ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকাতেও দিনটি গান্ধীজির জন্মদিন হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। গান্ধীজির অহিংসা ও প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতার ভাবনাকে সামনে রেখেই বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের এক দিনের মাংস বিক্রি বন্ধ রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—গান্ধী জয়ন্তীতে সারা দেশে একই নিয়মে মাছ-মাংস বন্ধের কোনও একক নির্দেশ জারি হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও শুধু কসাইখানা ও মাংসের দোকান, আবার কোথাও হোটেলে মাংস বিক্রির উপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই কোন শহরে কী নিয়ম, তা স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশের উপরই নির্ভর করছে।

অর্থাৎ ২ অক্টোবর আমিষ খাবার নিয়ে বাইরে খাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে, বেরোনোর আগে নিজের এলাকার পুরনিগম বা প্রশাসনের নির্দেশ জেনে নেওয়াই নিরাপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *