বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

বীরভূমের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড়সড় বদলের পথে কেন্দ্র। জেলার দুই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক—NH-14 এবং NH-114-এর একাধিক অংশের শক্তিবৃদ্ধি ও প্রয়োজন অনুযায়ী রাস্তা চওড়া করার জন্য ৫০৮.৬৬ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। শনিবার সমাজমাধ্যমে এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গডকড়ী।

একটি schematic/reference map, নির্দিষ্ট জমি বা রাস্তার alignment-এর সরকারি survey map নয়।

কেন্দ্রের অনুমোদিত প্রকল্পে NH-14-এর ৯১.৯০ কিলোমিটার এবং NH-114-এর ৫৬.৪০ কিলোমিটার রাস্তা রয়েছে। গডকড়ীর দাবি, রাস্তার পরিকাঠামো উন্নত হলে যানজট কমবে, যাতায়াতে সময় কমবে এবং পথের নিরাপত্তা বাড়বে। পাশাপাশি মানুষ ও পণ্য পরিবহণ আরও মসৃণ হবে।

কোন পথে NH-14?

প্রস্তাবিত কাজের আওতায় NH-14-এর ভীমগড় থেকে নলহাটি পর্যন্ত ৯১.৯০ কিলোমিটার অংশ রয়েছে। এই পথ মল্লারপুরের উপর দিয়ে যাবে।

বৃহত্তর NH-14 করিডরটি বীরভূমের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে। ভীমগড় থেকে উত্তরের দিকে এগিয়ে দুবরাজপুর, সিউড়ি, মহম্মদবাজার, দেউচা, মল্লারপুর, রামপুরহাট হয়ে নলহাটি-র দিকে পৌঁছয় এই জাতীয় সড়ক। তবে কেন্দ্রের ঘোষণায় নির্দিষ্ট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভীমগড়–নলহাটি ৯১.৯০ কিলোমিটার এবং মল্লারপুর হয়ে যাওয়ার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে।

NH-114-এও বড় কাজ

অন্য দিকে, NH-114-এর ৫৬.৪০ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন করা হবে। এই অংশটি সুরুল গ্রাম থেকে মল্লারপুর পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই করিডরটি বোলপুর-শান্তিনিকেতন সংলগ্ন এলাকা থেকে আহমদপুর, সাঁইথিয়া হয়ে মল্লারপুরের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে। NH-114 বৃহত্তরভাবে মল্লারপুর, সাঁইথিয়া, আহমদপুর, বোলপুর-সহ বীরভূমের গুরুত্বপূর্ণ জনপদগুলিকে সংযুক্ত করে।
অর্থাৎ, এক দিকে ভীমগড়–দুবরাজপুর–সিউড়ি–মহম্মদবাজার–দেউচা–মল্লারপুর–রামপুরহাট–নলহাটি করিডর, অন্য দিকে সুরুল–বোলপুর–আহমদপুর–সাঁইথিয়া–মল্লারপুর করিডর—দুই দিকেই রাস্তার পরিকাঠামো উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হল।

কমবে যানজট, কমবে যাত্রার সময়

কেন্দ্রের বক্তব্য, রাস্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জায়গায় তা চওড়া করা হলে যান চলাচল আরও স্বচ্ছন্দ হবে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যাতায়াতের সময় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পণ্যবাহী গাড়ির চালকরাও এর সুফল পাবেন।
বীরভূমের গ্রাম, শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলির মধ্যে যোগাযোগ আরও মজবুত করার পাশাপাশি এই প্রকল্প আঞ্চলিক বাণিজ্য, স্থানীয় ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে বলেও জানিয়েছেন গডকড়ী।
ফলে ৫০৮.৬৬ কোটি টাকার এই প্রকল্প শুধু রাস্তা মেরামত বা চওড়া করার কাজ নয়, বীরভূমের যোগাযোগ ও অর্থনীতির ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
🗺

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *