Paschim Bardhaman

কয়লাকাণ্ডে ইডির জাল আরও বিস্তৃত, ‘বাদশা’ সিন্ডিকেট ঘিরে তদন্তে নতুন মোড়

বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা

আসানসোল–দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে বহুদিন ধরে চলা অবৈধ কয়লা পাচার ও সিন্ডিকেট চক্রের তদন্তে নতুন মোড় আনল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। কয়লাকাণ্ডে ধৃত অভিযুক্ত চিন্ময় মণ্ডল-কে আরও পাঁচ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। একই সঙ্গে তাঁর ভাগ্নে কিরণ খাঁ-কে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আবেদনও করেছে তদন্তকারী সংস্থা।


ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সপ্তাহে তল্লাশি চালানোর সময় কিরণ নিজের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন। ভাঙা মোবাইলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, ওই মোবাইল থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনে নতুন তথ্য সামনে এলে আবারও হেফাজতের আবেদন করা হতে পারে।
তদন্তে উঠে এসেছে, আসানসোল–দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল একটি শক্তিশালী কয়লা সিন্ডিকেট। শিল্পাঞ্চলের এই চক্রকে স্থানীয়ভাবে ‘বাদশা’ নামে ডাকা হত। অভিযোগ, মামা-ভাগ্নে মিলেই এই সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান পরিচালনাকারী ছিলেন।
ইডির দাবি, এই চক্র শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে একটি ‘ইন্টারলিঙ্কড সিন্ডিকেট’ সক্রিয় ছিল। ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন খনি থেকে অবৈধভাবে কিংবা চালান ছাড়াই বিপুল পরিমাণ কয়লা পশ্চিমবঙ্গে আনা হত বলে অভিযোগ। এরপর প্রতি মেট্রিকটন কয়লার উপর নির্দিষ্ট হারে তোলাবাজি চালানো হত।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া হোয়াট্‌সঅ্যাপ চ্যাটে ৪০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন ‘রেট চার্ট’-এর উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ, এই তোলাবাজির অর্থ ‘দানের টাকা’ হিসেবে দেখিয়ে সাদা করার চেষ্টা করা হত। বর্তমানে সেই অর্থের মাধ্যমে অভিযুক্তরা কত সম্পত্তি অর্জন করেছেন এবং সেই অর্থ অন্য কোথাও বিনিয়োগ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কিরণের বাড়ি রানিগঞ্জ এলাকার বক্তারনগরে। অন্যদিকে চিন্ময় দুর্গাপুরের বাসিন্দা। তদন্তে জানা গিয়েছে, অবৈধ কয়লা ব্যবসায় চিন্ময়ের হাতেখড়ি হয় বাম আমলেই। সে সময় তিনি আরও পাঁচজন সহযোগীকে নিয়ে শিল্পাঞ্চলে সিন্ডিকেট পরিচালনা করতেন। প্রায় পনেরো বছর আগে এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব তাঁর ভাগ্নে কিরণের হাতে আসে বলে অভিযোগ।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই সংক্রান্ত মোট ৪৭টি এফআইআর আগে দায়ের হয়েছিল। পরবর্তীতে আরও সাতটি নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও নতুন তথ্য সামনে আসার দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের। কয়লা পাচার চক্রের এই জাল কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে ইডি।

News Editor

Recent Posts

শ্যামলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অসিত মন্ডল

বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা পঞ্চায়েত প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করলেন অসিত মন্ডল। লিখিতভাবে অসিত…

2 days ago

বকেয়া বিলের দাবিতে আসানসোল পৌরনিগমে ঠিকাদারদের বিক্ষোভ, মেয়রকে আল্টিমেটাম

বিভিন্ন ওয়ার্ডে উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করেও দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া অর্থ না পাওয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার আসানসোল…

2 days ago

গরিবের ত্রিপল বাড়িতে মজুত! গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর তরুণ চক্রবর্তী

বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা রাজ্য সরকারের গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রিপল নিজের বাড়িতে…

2 days ago

আসানসোলে পার্কিং ফি নিয়ে বিতর্ক! কর্পোরেশনের ঘোষণা সত্ত্বেও অবাধে আদায় হচ্ছে টাকা, অভিযোগ সাধারণ মানুষের

বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা আসানসোল পৌরনিগম এলাকার সমস্ত পার্কিং বর্তমানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বলে ঘোষণা…

2 days ago

রানীগঞ্জের অঞ্জনা এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, জনবহুল এলাকায় ফার্নিচার দোকানে আগুনে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির আশঙ্কা

বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা রানীগঞ্জের অঞ্জনা এলাকায় একটি ফার্নিচারের দোকানে গভীর রাতে আগুন লাগার…

4 days ago

রানিগঞ্জে তৃণমূল নেতার ‘ডিজেল সিন্ডিকেট’ ফাঁস! গোডাউনে বিপুল ডিজেল মজুতের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ ও ইসিএল

বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা রাতের অন্ধকারে চলা কথিত ডিজেল পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বড়সড় পদক্ষেপ…

5 days ago