বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা
আসানসোলের পোলো গ্রাউন্ডে আবারও বইপ্রেমীদের মিলনমেলা। যুব শিল্পী সংসদের উদ্যোগে শুরু হল বহুল প্রতীক্ষিত আসানসোল বইমেলা, যা এ বছর গর্বের সঙ্গে ৪২ বছরে পদার্পণ করল। শুক্রবার দুপুরে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট লেখিকা ও সাহিত্যিক জয়া মিত্র।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম, আসানসোল পুরনিগমের চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়, বাসুদেব মণ্ডল, যুব শিল্পী সংসদের সম্পাদক সৌমেন দাস, শচীন রায়, ডা. দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিকাশ গায়েন, পার্থপ্রতীম আচার্য্য, সোমনাথ গরাই-সহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানে প্রথমে যুব শিল্পী সংসদের পতাকা উত্তোলন করেন সৌমেন দাস এবং পরে বইমেলার পতাকা উত্তোলন করেন জেলাশাসক এস পোন্নাবলম। বইমেলার স্মারক পত্রিকার উন্মোচন করেন পুর চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে জেলাশাসক এস পোন্নাবলম বলেন, “আসানসোল এমন একটি শহর যেখানে এক মাসের ব্যবধানে দুটি বইমেলা হয়—একটি সরকারি উদ্যোগে, অন্যটি যুব শিল্পী সংসদের আয়োজনে। দু’টিই অত্যন্ত সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হয়। আজ আমি প্রশাসক হিসেবে এসেছি, ভবিষ্যতে বইপ্রেমী হিসেবেও এই মেলায় আসব। সমাজ যত আধুনিকই হোক, বই মানুষের চিরকালীন সঙ্গী।”
লেখিকা জয়া মিত্র তাঁর বক্তব্যে বলেন, “৪২ বছর ধরে যুব শিল্পী সংসদ যে নিষ্ঠা ও ভালোবাসা নিয়ে এই বইমেলার আয়োজন করে আসছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আগামী দিনেও এই মেলাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।”
এবারের বইমেলা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত, মোট ১০ দিন। সম্পাদক সৌমেন দাস জানান, ১০ জানুয়ারি দুপুর থেকেই মেলার মঞ্চে শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৫ জানুয়ারি দুপুরে কবি সম্মেলন, ১৬ জানুয়ারি কুইজ প্রতিযোগিতা (দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য), ১৮ জানুয়ারি বসে আঁকো ও আলপনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সঙ্গীতানুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সাগ্নিক সেন, আর শেষ দিনের সন্ধ্যায় থাকবেন দীপ চ্যাটার্জি ও মাতান।
এ বছর প্রথমবারের মতো ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান “গল্প শুনুন”, যেখানে দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী ও জাতির গর্ব এমন মহান ব্যক্তিত্বদের অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরা হবে—যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে।
বইমেলায় রয়েছে ৫০টি বইয়ের স্টল, যেখানে বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার বই পাওয়া যাবে। থাকছে বাগবাজার রামকৃষ্ণ মিশনের বিশেষ স্টল, ইসকনের স্টল, লিটল ম্যাগাজিনের জন্য ২৬টি টেবিল এবং ১৪টি খাবারের স্টল। প্রায় ৩০০ জন শিল্পী—যাঁদের অধিকাংশই আসানসোল ও আশপাশের এলাকার—পুরো মেলাজুড়ে নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
যদিও উর্দু ভাষার স্টল এবার রাখা সম্ভব হয়নি, তবুও শিল্পাঞ্চল আসানসোলের এই বইমেলা তার বহুভাষিক, বহুসাংস্কৃতিক চরিত্র বজায় রেখেছে। সরকারি বইমেলা ঠিক আগের মাসে একই শহরে অনুষ্ঠিত হলেও, ৪২ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই আসানসোল বইমেলার আলাদা আবেদন আজও অটুট। শিল্পাঞ্চল থেকে শুরু করে জেলার বাইরের রাজ্য পর্যন্ত—লেখক, কবি, সাহিত্যিক ও পাঠকের সমাগমেই প্রমাণিত হয়, বইয়ের গুরুত্ব আজও কতটা গভীর ও প্রাসঙ্গিক।
এই বইমেলায় পা রাখলেই বোঝা যায়—আসানসোল শুধু শিল্পের শহর নয়, এটি বই, চিন্তা ও সংস্কৃতিরও এক উজ্জ্বল ঠিকানা।
বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা ভোটের আবহে বড়সড় পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র।…
বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা নির্বাচনের মরসুমে, যখন রাজ্যে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah, ঠিক সেই…
बंगलार जागरण डॉट कॉम संवाददाता पश्चिम बंगाल विधानसभा चुनाव 2026 के मद्देनज़र आसनसोल उत्तर विधानसभा…
बंगलार जागरण डॉट कॉम संवाददाता कोलकाता/नई दिल्ली : पश्चिम बंगाल में स्पेशल इंटेंसिव रिवीजन (SIR)…
বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরদার নাকা তল্লাশিতে বড়সড় সাফল্য পেল আসানসোল…
বাংলার জাগরণ ডট কম সংবাদদাতা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরদার করা হয়েছে নাকা চেকিং।…